কী ধরনের বই আমার পড়তে ভালো লাগে

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নির্মিতি | NCTB BOOK
1.4k
Summary

বই পড়ার প্রতিজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা

ভূমিকা: গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাক্সিম গোর্কি বলেছেন, 'আমার মধ্যে উত্তম বলে যদি কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী।' বই মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনা সৃষ্টি করে এবং তাদের চেতনাকে জাগ্রত করে।

আমার বই পড়ার শুরুর কথা: পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই আমি বই পড়তাম, বিশেষ করে 'ঠাকুরমার ঝুলি', ঈশপের গল্প ও মোল্লা নাসিরউদ্দীনের গল্প। এখন বিভিন্ন ধরনের বই, বিশেষ করে গোয়েন্দা গল্প ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প পড়ি।

আমার ভালো লাগার বই: গোয়েন্দা গল্পে আমার প্রিয় চরিত্র 'ফেলুদা', যার স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। ফেলুদার গল্পগুলো যেমন 'জয় বাবা ফেলুনাথ' ও 'কলকাতায় ফেলুদা' আমাকে রোমাঞ্চিত করে। আমি প্রতিটি গল্পে নিজেকে ডুবিয়ে রাখি এবং আমার সময় কেটে যায়।

আমার অন্যান্য বইয়ের সংগ্রহ: গোয়েন্দা গল্পের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বই, ইতিহাসের বই, সায়েন্স ফিকশন, গণিতের বই ও ম্যাজিক শেখার বইও পড়ি।

বই পড়ে আমার প্রাপ্তি: বই পড়ার মাধ্যমে আমি আনন্দের পাশাপাশি যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক হতে সাহায্য করেছি। বইয়ের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যা ভবিষ্যতে আমাকে সাহায্য করবে।

উপসংহার: বই সবসময় আমাকে সৎ পথে চলতে সাহায্য করে এবং কঠিন সময়ে বন্ধু হিসেবে পাশে থাকে। বই পড়া জ্ঞানের জন্য অপরিহার্য এবং প্রত্যেকেরই বই পড়া উচিত।

কী ধরনের বই আমার পড়তে ভালো লাগে

ভূমিকা: গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাক্সিম গোর্কি বলেছেন, 'আমার মধ্যে উত্তম বলে যদি কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী।' সত্যিকার অর্থেই বই মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনার জন্ম দেয়। মানুষের চেতনাকে জাগ্রত করে। তাই তো বই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।

আমার বই পড়ার শুরুর কথা : মায়ের কাছ থেকে বর্ণমালা শেখার পর পাঁচ বছর বয়সে আমাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। স্কুলের পাঠ্যবই তখন আমার সঙ্গী হয়। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই আমি বই পড়তাম। ছোটবেলায় 'ঠাকুরমার ঝুলি' আমাকে খুব আনন্দ দিত। এ গল্পগুলো আমি নিজে পড়ে যতটা আনন্দ পেতাম, তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পেতাম শুনে। এ ছাড়া ঈশপের গল্প, মোল্লা নাসিরউদ্দীনের গল্প, বীরবলের গল্প ও গোপাল ভাঁড়ের গল্প আমার পড়তে ভালো লাগত। কিন্তু এখন আমি এ রকম বই পড়ি না। গোয়েন্দা গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প ছাড়াও আরও নানা রকমের গল্পের বই এখন আমার নিত্যসঙ্গী।

আমার ভালো লাগার বই: গোয়েন্দা গল্প পড়তে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর মধ্যে 'ফেলুদা' আমার সবচেয়ে প্রিয়। অমর এ চরিত্রের স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। ফেলুদাকে নিয়ে সত্যজিৎ রায় অনেকগুলো গল্প লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জয় বাবা ফেলুনাথ, কলকাতায় ফেলুদা, বাক্স রহস্য, সোনার কেল্লা, রয়েল বেঙ্গল রহস্য, শেয়াল রহস্য ইত্যাদি। গল্পগুলো যখন আমি পড়ি, তখন আমার মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে আমি নিজেকে গল্পের চরিত্র হিসেবেও ভাবতে শুরু করি। ফেলুদার সঙ্গে থাকা তপেসের চরিত্র এ ক্ষেত্রে আমাকে খুবই আকর্ষণ করে। আর জটায়ুর চরিত্র আমাকে আনন্দ দেয়। তবে ফেলুদার চরিত্র এককথায় অসাধারণ। গল্পগুলো যখন আমি পড়ি, তখন সময় কোন দিক দিয়ে কেটে যায় আমার মনেই থাকে না। সব কাজ ভুলে গল্পগুলোর মধ্যে আমি নিজেকে ডুবিয়ে রাখি। যতক্ষণ একটি গল্প পড়া শেষ না হয়, ততক্ষণ আমি বই ছেড়ে উঠতে পারি না। এক কল্পনার জগতের মধ্যে গল্পগুলো আমাকে টেনে নিয়ে যায়।

আমার অন্যান্য বইয়ের সংগ্রহ: গোয়েন্দা গল্প ছাড়াও আমার সংগ্রহে মুক্তিযুদ্ধের বই, ইতিহাসের বই, সায়েন্স ফিকশন, গণিতের বই ও ম্যাজিক শেখার বই রয়েছে। গোয়েন্দা গল্প পড়ার পাশাপাশি এ বইগুলো পড়তেও আমার ভালো লাগে।

বই পড়ে আমার প্রাপ্তি: আনন্দ পাওয়ার জন্যই আমি মূলত বই পড়ি। তবে গোয়েন্দা গল্পগুলো আমাকে যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক হতে সাহায্য করেছে। আমার চারপাশের অজানা জগৎ সম্পর্কে আমাকে ধারণা দিয়েছে বই। বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বই। বই পড়ে আমি মানুষের মন ও তার চিন্তা সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পেয়েছি। ভবিষ্যতে এ জ্ঞান আমাকে পথ চলতে সাহায্য করবে। আমার পরিবার, বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কাছে আমাকে আদরণীয় করেছে বই।
উপসংহার: বই আমাকে সব সময় সৎ পথে চলতে সাহায্য করে। আমার মন খারাপ হলে বন্ধুর মতো আমার পাশে থেকে বই আমাকে সাহায্য করে। বই পড়ে আমি মানুষের জন্য ভালো কিছু করার প্রেরণা পাই। জ্ঞান ও বুদ্ধিতে মানুষকে শাণিত হতে হলে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকেরই বই পড়া উচিত।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...